বিশ্বকাপ ফুটবলের আরও একটি মেগা ফাইনালে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা। আগামী ২০ জুলাই বৈশ্বিক ফুটবলের এই চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল। তবে শিরোপা নির্ধারণী এই মহারণের আগে আর্জেন্টাইন শিবিরকে কিছুটা শঙ্কায় রেখেছে ‘জুলাই’ মাসের অতীত পরিসংখ্যান। ফুটবল ইতিহাস বলছে, জুলাই মাসে আর্জেন্টিনা কখনোই বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারেনি; এই মাসে খেলা বিগত ৩টি ফাইনালের ৩টিতেই তাদের রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে তিনবার বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলেছে। দলটির প্রথম শিরোপা আসে ১৯৭৮ সালে নিজেদের মাটিতে, নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে। দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে দ্বিতীয় ট্রফি আসে ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর মাটিতে, যেখানে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ ব্যবধানে হারায় আলবিসেলেস্তেরা। এই দুটি ফাইনালই অনুষ্ঠিত হয়েছিল জুন মাসে। অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে আসা সবশেষ তৃতীয় শিরোপাটি জিতেছিল ডিসেম্বর মাসে। কাতার বিশ্বকাপের তীব্র গরমের কারণে সেবার টুর্নামেন্টটি শীতকালে আয়োজন করা হয়েছিল।
তিনটি ট্রফি জিতলেও আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে সব মিলিয়ে ৬ বার। বাকি যে ৩টি ফাইনালে তাদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল, তার সবকটিই অনুষ্ঠিত হয়েছিল জুলাই মাসে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে ৩০ জুলাই উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৯০ সালের ৮ জুলাই দিয়েগো ম্যারাডোনার দল জার্মানির কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়। সবশেষ ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই লিওনেল মেসিও এই জুলাইয়ের তেঁতো স্বাদ পান, যেখানে জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালটি আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুলাই মাসেই। স্পেনের বিপক্ষে ২০ জুলাইয়ের এই ম্যাচে জয় তুলে নিতে পারলে জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার নতুন রেকর্ড গড়বে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে দলটির সামনে তাই এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখা, অন্যদিকে জুলাই মাসের ঐতিহাসিক জুজু কাটিয়ে নতুন এক ইতিহাস লেখা।



