মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়ছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে। এর ফলে বিগত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় আজও বিশ্ববাজারে মূলবান এই ধাতুটির দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক দরপতনের সুযোগ নিয়ে নতুন করে কেনাকাটা বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
এদিন বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.২২ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,০৩৬.০৯ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে থাকা মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারসের দাম প্রতি আউন্স ৪,০৩৭.৩০ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম কমে মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৪,০০০ ডলারের স্তরের কাছাকাছি নেমে আসায় অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে ধাতুটিতে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়েছেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশাও বিশ্ববাজারকে সহায়তা দিচ্ছে।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ফেডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার অনুমান করলেও ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাকেও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেড যদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা দেয়, তবে স্বর্ণের দাম কমে ৩,৯৪১ ডলার পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। অন্যদিকে, নমনীয় নীতির ইঙ্গিত মিললে ধাতুটির দাম পুনরায় ৪,১০০ ডলারের উপরে উঠতে পারে। এদিন স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দাম ১.৩ শতাংশ বাড়লেও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ০.৯ ও ০.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।



