বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া থেকে ৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একটি বড় ধরণের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মতি জানিয়েছে দেশটি। এর পাশাপাশি প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকেও নিজ দেশে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলেই এই ফলপ্রসূ সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’-র বরাতে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, এতদিন মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে চায়নি। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগের কারণে এখন তারা প্রথম দফায় ৫ হাজার এবং বাংলাদেশে আশ্রিত আরও ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরাতে সম্মত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আশ্রিতদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার উল্লেখ করেননি।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বর্বর দমন-পীড়ন ও সহিংসতার মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়, যা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির। এছাড়া জীবনঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে বহু রোহিঙ্গা মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়।

এদিকে, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং অঞ্চলের একটি বসতি থেকে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে অবস্থিত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-র কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে কর্তৃপক্ষ তাদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়। এমন সময়ই মিয়ানমারের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনে রাজি হওয়ার এই ঘোষণা এল।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে মানবিক সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে।