চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দুর্ঘটনায় নিহত ও চিকিৎসাধীন আহতদের সার্বিক খোঁজখবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। চমেক হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও দুর্ঘটনা তদন্ত প্রক্রিয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেবে না। সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন করতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব এবং তদন্তের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দুর্ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রভাব ও গ্রিন ইয়ার্ড সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিপব্রেকিং খাতজুড়ে ‘গ্রিন ইয়ার্ডের’ নিয়মকানুন বা কমপ্লায়েন্স পালনে বিশেষ জোর দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক হংকং কনভেনশনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে এই গ্রেডিং দেওয়া হয়। ওই ইয়ার্ডে কমপ্লায়েন্সের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।
এর আগে সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে’ একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতর থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাহাজের ভেতরে তীব্র বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।



