ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে দেশের স্বার্থ ও পানি নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের ঘোষণা পানিসম্পদমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

গঙ্গা পানি বণ্টন বা ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য অধিকার, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বর্তমান ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বাস্তবতায় দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে পানি নিরাপত্তাকে প্রধান লক্ষ্য ধরে সরকার চুক্তি নবায়নে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) আয়োজিত ‘গঙ্গা পানি চুক্তির পুনঃনবায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চুক্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের আমলে সম্পাদিত ফারাক্কা চুক্তিটি ছিল সবচেয়ে কার্যকর ও শ্রেষ্ঠ, কারণ সেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পাওয়ার সুনির্দিষ্ট ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ১৯৯৬ সালের পরবর্তী চুক্তিতে সেই গুরুত্বপূর্ণ গ্যারান্টি ক্লজটি বাদ দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। নানা কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশের সার্বভৌম স্বার্থকে সবার উপরে রেখে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী থাকলেও নাব্যতা সংকটে অধিকাংশ নদীই আজ পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্য ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খননের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে যোগ্য ও উপযুক্ত বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে যৌথ নদী কমিশনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এতে বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ আলোচনা প্রদান করেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির এমিরিটাস অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।