শিল্প ও রপ্তানিমুখী কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ ও আগাম লোডশেডিং সূচি প্রকাশের দাবি

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশের শিল্প খাতের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি, পূর্বানুমানযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল ও রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এবং কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে আগাম লোডশেডিং সূচি প্রকাশের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চ্যালেঞ্জ: উন্নত ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানান বক্তারা। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও এমসিসিআই যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে, যাতে সহায়তা প্রদান করে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ।

অনুষ্ঠানে এমসিসিআইয়ের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের স্বাগত বক্তব্যের পর ‘বাংলাদেশ বিজনেস ইনডেক্স (বিবিএক্স) ২০২৪-২৫’-এর তথ্য উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট হাসিব হাসান। উপাত্তে দেখা যায়, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সংকটে দেশের ব্যবসায়িক অবকাঠামোর সূচক স্কোর আগের অর্থবছরের ৭১.১ থেকে কমে ৬৮.৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৪.২ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন।

পরে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, লাফার্জহোলসিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, সিরামিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম এবং শক্তি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বক্তব্য দেন। আলোচকরা উল্লেখ করেন, চলতি আগস্টের শুরুতে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়া ও কম গ্যাসের চাপের কারণে শিল্প উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করে বলেন, জ্বালানির দীর্ঘদিনের সরবরাহ অনিশ্চয়তা দেশীয় উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় একটি আলাদা শিল্প জ্বালানি নীতি প্রণয়নসহ আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের জন্য টেকসই জ্বালানি মিশ্রণ ও আগাম পরিকল্পনার দিকে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই গোলটেবিলের সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুতই একটি সুনির্দিষ্ট নীতিপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।