ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানে টিটিসি প্রশিক্ষণ এবং জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা ভাসিয়ে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় মিথ্যা বার্তা দেওয়ার পথ বন্ধ করে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষা খাতকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারের এই দূরদর্শী রূপরেখার কথা জানান।

তিনি জানান, কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কারের প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী বছর (২০২৭ শিক্ষাবর্ষ) থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে ৪টি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার উদ্দেশ্য রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করা।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে শিক্ষা খাতই তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সময়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করা হচ্ছে।

পরীক্ষার ফলাফলের গুণগত পরিবর্তন নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত আমলের কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানো ও পরীক্ষা ছাড়া পাসের আত্মঘাতী সংস্কৃতি বন্ধ করা হয়েছে। এবার কোনো গ্রেস নম্বর ছাড়াই শতভাগ স্বচ্ছতায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

অকৃতকার্য ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বোঝা না ভেবে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের নীতি নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান ও শিল্প খাতের সরাসরি সংযোগ ঘটাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিক্ষক মূল্যায়নে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রোগ্রামের আওতায় পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’ দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।