সোলার প্যানেল থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশের সার্বিক জ্বালানি খাতকে নিরাপদ ও টেকসই করতে সোলার প্যানেল তথা সৌরবিদ্যুৎ খাতকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার প্যানেল থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) আয়োজিত ‘সোলার ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ট্রেইনার্স ট্রেনিং এবং নতুন সোলার ল্যাবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম আসার আগেই নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুফটপ সোলার স্থাপনে সহজ শর্তে ঋণের সুব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবল তৈরি করে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উদ্যোগ চলছে।

তিনি জানান, যেসব উদ্যোক্তা বা সাধারণ গ্রাহক রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাদের কাছ থেকে গ্রিডে আসা প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে নেবে। গড়ে প্রতি ইউনিট উৎপাদনের খরচ ৬ থেকে ৭ টাকা হওয়ায় এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারিসহ এ খাতের সব পণ্যের কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর পুরোপুরি মওকুফ করা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সব সরকারি কার্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে রুফটপ সোলার প্যানেল বসাতে ইতোমধ্যে একটি নির্দেশিকা বা গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী যশোর টিটিসি ভবনের ছাদে স্থাপিত ৭ কিলোওয়াটের একটি সোলার প্যানেল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ গাজী ইফফাত মাহমুদ নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত সোলার প্যানেলের আবেদন জানালে প্রতিমন্ত্রী তা অবিলম্বে সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকনসহ স্থানীয় কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন।