অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আহ্বান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ জন্য সংস্থাগুলোর নিজস্ব অব্যবহৃত ছাদ ও খালি স্থাপনাগুলো কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খুলনায় বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড (বাকেশি) প্রাঙ্গণে নতুন স্থাপিত ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার প্ল্যান্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বর্তমান সরকারের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসাহিত করতে সোলার যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৬ মাসের শুল্ক-কর ছাড় দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে বিশেষ প্রণোদনা মূল্য প্রদান করা হবে।

উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি দক্ষতার সমন্বয় ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে একদিকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিচালন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ কমানো সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব এবং বাকেশি-র চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান রিমি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন এবং খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হুয়াই জাহানাত।

উল্লেখ্য, ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই রুফটপ সোলার প্ল্যান্টটি নির্মাণে বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৭১৫ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ৯০০ কিলোওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এতে বাকেশি-র প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে এবং পরবর্তী চার বছরের মধ্যেই প্রকল্পটির পুরোদমে নির্মাণ খরচ উঠে আসবে।