পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা একটি বহুল আলোচিত মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের তিন সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।

এই রায়ে শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর বোন শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর ভাগনি, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে মোট ১৭ জন আসামির বিরুদ্ধে এই মামলাটি করা হয়েছিল। আদালত এই মামলায় বাকি ১৪ জন আসামিকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির সংসদ সদস্যের ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁর মা শেখ রেহানা, বোন আজমিনা সিদ্দিক এবং ভাই রাদওয়ান মুজিবের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন। অভিযোগে বলা হয়, এই তিনজনই পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন।

গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনাসহ তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এই প্রেক্ষাপটে টিউলিপ সিদ্দিকের নামও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে তদন্ত শুরুর পর তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এবং গত ১৪ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টারের (ইকোনমিক সেক্রেটারি) পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৭ নভেম্বর অপর একটি আদালত তিনটি দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছর কারাদণ্ড এবং অন্য দুই মামলায় তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। এই মামলার রায়ের পর দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *