ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান: নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সুদীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বীরের বেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’তে আয়োজিত এক ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন তিনি। তার এই প্রত্যাবর্তন ও বক্তব্যে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তির আভাস পাওয়া গেছে।

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান দেশের সকল ধর্মের ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও হিন্দুসহ সব ধর্মের সবাই মিলে আমরা এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-শিশু নির্বিশেষে সবাই নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।” ১৭ মিনিটের এই আবেগঘন বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে এবং কোনো উসকানির মুখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলো স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে একই সূত্রে গেঁথে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বারবার এ দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। এসময় তিনি চব্বিশের আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ও অন্যান্য শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাদের রক্তঋণ শোধ করার শপথ নেন।

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে নিজের চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।” মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’-এর আদলে তিনি ঘোষণা করেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। দেশের কৃষক, শ্রমিক, নারী ও প্রতিবন্ধীসহ সকল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি দেশবাসীর সমর্থন ও দোয়া চান।

আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে মঞ্চে রাখা বিশেষ নকশার চেয়ার সরিয়ে একটি সাধারণ প্লাস্টিক চেয়ারে বসে বক্তব্য দেন তিনি। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, তবে দেশ ও মানুষের স্বার্থকে বড় করে দেখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এর আগে বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকা পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার পথ আসতে জনতার ভিড়ে তার ৩ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। সংবর্ধনা মঞ্চে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আশ্বাসের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান তার বক্তব্য শেষ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *