বাংলাদেশ থেকে দ্রুত কর্মী নিবে থাইল্যান্ড, সই হলো সমঝোতা স্মারক

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার লক্ষে থাইল্যান্ডের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী ত্রিনুচ থিয়েনথংয়ের কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশকের আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশিদের জন্য থাইল্যান্ডে কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে থাই শ্রমমন্ত্রী ত্রিনুচ থিয়েনথং বলেন, দ্বিপাক্ষিক এই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কর্মী নিয়োগ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি থাইল্যান্ডের বর্তমান শ্রমবাজারের সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং একটি নিরাপদ ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফয়েজ মুর্শিদ কাজী জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ এবং নিয়মিত পদ্ধতিতে থাইল্যান্ডে দক্ষ কর্মী পাঠাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বাংলাদেশের বিদ্যমান শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতিগুলো সরেজমিনে দেখার জন্য তিনি থাই শ্রম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া রাষ্ট্রদূত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পক্ষ থেকে থাই শ্রমমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন।

রাষ্ট্রদূত কাজী আরও জানান, থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য বড় শ্রম গন্তব্য দেশগুলোর উন্নত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে থাইল্যান্ডে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহী।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র সংঘাতের জেরে বিপুল সংখ্যক কম্বোডিয়ান শ্রমিক থাইল্যান্ড ছেড়ে চলে গেছেন। এর ফলে থাইল্যান্ডের কৃষি, নির্মাণ ও মৎস্য খাতে যে বিশাল শ্রমিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা মেটাতেই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়াটি গতি পেয়েছে। বৈঠকে থাই শ্রমমন্ত্রী তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের সাথে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনাটি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। এখন সবার নজর পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *