বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফক্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যারা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাদের ঠেকাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা যাচাই ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ভিসা ইস্যু করা হবে না। মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় ভিসা প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই স্থগিতাদেশের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার রয়েছে। এ ছাড়া সোমালিয়া, রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইয়েমেনসহ ৭৫টি দেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি বোঝা হয়ে দাঁড়াবেন কি না, তা নিশ্চিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা এখন থেকে স্বাস্থ্য, বয়স, ইংরেজি দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজনের মতো বিষয়গুলো কঠোরভাবে বিবেচনা করবেন। বিশেষ করে বয়স্ক বা অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারী, অতীতে সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণকারী কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে থাকার ইতিহাস রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ভিসা নাকচ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, আমেরিকান জনগণের উদারতার অপব্যবহার রোধে এই দীর্ঘদিনের আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কল্যাণভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে এবং ভিসা প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করতেই এই ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসন ও ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সোমালিয়া থেকে আসা নাগরিকদের মধ্যে মিনেসোটাকেন্দ্রিক একটি বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি উদঘাটনের পর এই নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সরকারি অনুদান অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্তদের একটি বড় অংশই সোমালি নাগরিক। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, স্থগিতাদেশের এই সময়ে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত এবং তা কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন কোনো আবেদনকারী পাবলিক চার্জ সংক্রান্ত সব কঠোর শর্তে সফলভাবে উত্তীর্ণ হবেন।
বর্তমানে ৭৫টি দেশের তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত মার্কিন ভিসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।



