আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৩৬৭ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩৩ হাজার ৫১৩ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা ও ওয়ারেন্ট ছিল। এছাড়া গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ফেইজ-২ এর আওতায় ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযানের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২টি কার্তুজ এবং ৬৯৪টি দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও গ্রেনেড, মর্টার শেল ও বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে সকল সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অপরাধীদের চলাচল রোধ এবং লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সারা দেশে চেকপোস্ট ও বিশেষ টহল বাড়ানো হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশসহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, সবার সম্মিলিত সহায়তায় জাতিকে একটি উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।



