পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই সরকারের তিনটি মূল লক্ষ্য হলো—রাষ্ট্রীয় সংস্কার সাধন করা, বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, সমাজের একটি অংশ চায় না দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে এই বাধাকে অতিক্রম করে আগামী নির্বাচনে তরুণ সমাজই বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে ফলাফল কী হবে, তা ঠিক করবে দেশের তরুণ সমাজ।”
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা ধরনের অপচেষ্টা চালানো হতে পারে। এ ধরনের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখাকে তিনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপদেষ্টা তরুণদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যদের মধ্যে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জুয়েল রানা এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।



