পাসপোর্ট পেলেও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পাসপোর্ট দেওয়া এবং নাগরিকত্ব পাওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়।

উপদেষ্টা জানান, বহু বছর আগে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রচলিত থাকায় এই প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তিদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য বাংলাদেশের ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, “একটি দেশের পরিপ্রেক্ষিতে যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন অনেক স্বার্থ জড়িত থাকে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম যেন এটি করতে না হয়, কিন্তু আমাদের অন্যান্য জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত এই ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।” তবে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, পাসপোর্ট প্রদান মানেই তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে যাওয়া নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্য দেশের নাগরিককে পাসপোর্ট দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এই জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের আরাকানের আদি অধিবাসী এবং এটি সারা বিশ্বই স্বীকার করে। বাংলাদেশে বর্তমানে আশ্রিত ১৩ লাখ রোহিঙ্গার পূর্বপুরুষেরা শত শত বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছেন। ফলে ছোটখাটো কারিগরি ইস্যু দিয়ে তাদের প্রত্যাবাসন আটকে থাকবে না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *