ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য তাঁর দল ঝুঁকি নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে দলীয় প্রার্থী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম নজুর সমর্থনে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সৈয়দ রেজাউল করীম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ভালো নীতি ও নেতা ছাড়া জাতির কোনো মুক্তি নেই।” তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের মতো মানুষের জানমালের ক্ষতি এবং বিদেশে অর্থ পাচার হোক—তা ইসলামী আন্দোলন চায় না। আর এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্যেই হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ২৫৮টি আসনে তাঁর দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “সবাই আমাদের একা ভাবলেও আমাদের সঙ্গে আল্লাহ এবং ইসলাম ও দেশপ্রেমিক মানুষের ভালোবাসা আছে।”
বক্তব্যে তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আদর্শিক অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে প্রচলিত গণতন্ত্র ও যে নীতিতে দেশ চলেছে, তাতে মানুষের মুক্তি আসেনি। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনেই দেশ চালানোর কথা বলছে, যা দিয়ে শান্তি আসবে না।
একই দিন রাতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে অপর এক জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, যখন আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বিপদে পড়ে, তখন তাদের নেতাকর্মীরা চরমোনাই বা ইসলামী আন্দোলনের কাছেই আশ্রয় নেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন খান জাবেদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী প্রার্থীদের সমালোচনা করে ইসলামপ্রিয় জনতাকে হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুরের এই জনসভাগুলোতে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে মাওলানা জসিম উদ্দিন সরকার ও মোহাম্মদ সামছুল হক সুমন। এতে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



