আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ২৮ দফা সম্বলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এই ইশতেহার পেশ করেন।
ইশতেহারে প্রধানত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসিত আর্থিক খাতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চরমোনাই পীর বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনীতি একমুখী এবং নিবিড় শ্রমনির্ভর হওয়ার কারণে এটি অত্যন্ত ভঙ্গুর। এই পরিস্থিতি উত্তরণে ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে রপ্তানিকে বহুমুখী ও প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক করার পাশাপাশি মূলধনী পণ্য আমদানির পরিবর্তে দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিকে প্রাধান্য দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের দুর্নীতি ও টাকা পাচার পুরোপুরি বন্ধ করে কঠোর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের কঠিন শর্তসমূহ পুনর্বিবেচনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্বের উৎকর্ষ সাধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খাতভিত্তিক ২৮ দফার মধ্যে আরও রয়েছে— বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা, সর্বজনীন কর্মসংস্থান, উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূষণমুক্ত জ্বালানি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা। এছাড়া গৃহায়ণ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য শোভন কর্মসংস্থান ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে শ্রমবাজার তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইশতেহার ঘোষণার সময় জানানো হয়, আসন্ন নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।



