ত্রয়োদশ সংসদে সরাসরি ভোটে নারী প্রতিনিধিত্বে ধস: ৮৫ প্রার্থীর মধ্যে জয়ী মাত্র ৭

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হলেও জাতীয় রাজনীতির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের চিত্রটি এবার বেশ হতাশাজনক। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৮৫ জন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ শতাংশের কাছাকাছি। গত ৫৪ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এটিই নারীর সর্বনিম্ন অংশগ্রহণ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ৮৫ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৬৬ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন ১৯ জন। বড় দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ১০ জন নারীকে মনোনয়ন দিলেও জামায়াতে ইসলামী কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। তবে অংশগ্রহণ কম হলেও বিজয়ীদের তালিকায় আধিপত্য দেখিয়েছে বিএনপি। বিজয়ী ৭ নারীর মধ্যে ৬ জনই দলটির মনোনীত প্রার্থী।

বিজয়ী নারী সংসদ সদস্যরা হলেন:

১. আফরোজা খান রিতা (মানিকগঞ্জ-৩) – বিএনপি

২. ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো (ঝালকাঠি-২) – বিএনপি

৩. তাহসিনা রুশদীর লুনা (সিলেট-২) – বিএনপি

৪. শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২) – বিএনপি

৫. নায়াব ইউসুফ কামাল (ফরিদপুর-৩) – বিএনপি

৬. ফারজানা শারমিন পুতুল (নাটোর-১) – বিএনপি

৭. ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) – স্বতন্ত্র (সাবেক বিএনপি নেতা)

এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীদের একটি বড় অংশই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত। হলফনামা অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। এছাড়া পেশাগতভাবে ৬৭ শতাংশ নারী কোনো না কোনো কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বয়সের দিক থেকে তরুণ ও মধ্যবয়সীদের (২৫-৩৯ বছর) প্রাধান্য ছিল বেশি।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে নারীর সরাসরি অংশগ্রহণের হার সবসময়ই কম ছিল। ২০০৮ সালে ৫৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন এবং ২০১৮ সালে ৬৮ জনের মধ্যে ২২ জন নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাটি এক অঙ্কে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের পিছিয়ে থাকা এবং প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশই এই হ্রাসের প্রধান কারণ।

বিজয়ীদের তালিকা সংক্ষিপ্ত হলেও এই সাতজন নারী এখন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে নারীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরবেন। সংরক্ষিত ৫০টি আসনের নারী সদস্যরা যুক্ত হওয়ার পর সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের চূড়ান্ত রূপটি স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *