গ্রাম আদালত আইন কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ ও বিবাদ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রণীত ‘গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬’-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আইনটি কেন অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান। শুনানি শেষে আদালত আইন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসানের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ’ নীতির সরাসরি পরিপন্থী। তিনি যুক্তি দেখান যে, রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিবাদের বিচার পরিচালনা করলে ন্যায়বিচারের মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়া রিটে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে বিচার পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু গ্রাম আদালতে কোনো প্রশিক্ষিত বিচারক নেই এবং সেখানে সাক্ষ্য আইন বা বিচারিক কার্যবিধির পূর্ণ প্রয়োগ ঘটে না। এমনকি আইনজীবীদের অংশগ্রহণের সুযোগও সীমিত। রিটকারীর ভাষ্যমতে, ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে নাগরিকদের জন্য আলাদা বিচারব্যবস্থা সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা’র অধিকারকেও লঙ্ঘন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *