দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসব এলাকায় শিশুদের সুরক্ষায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরাসরি দিকনির্দেশনায় এই বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে এই ৩০টি হটস্পটে কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আগেই এই বিশাল টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বরগুনা, পাবনা, চাঁদপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, নাটোর, মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুরের পৌরসভা ও সদর এলাকাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এছাড়াও কক্সবাজারের মহেশখালী-রামু, ময়মনসিংহের ত্রিশাল-তারাকান্দা এবং বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ-বাকেরগঞ্জসহ বেশ কিছু উপজেলাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ ও শরীয়তপুরের জাজিরাতেও আগামীকাল থেকে টিকা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যেসব শিশুর বর্তমানে জ্বর রয়েছে বা অন্য কোনো কারণে অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার আগে টিকা দেওয়া যাবে না। তবে হামে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ক্ষেত্রে রোগের জটিলতা কমাতে টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে। শিশুদের জীবন বাঁচাতে এই জাতীয় কর্মসূচিতে সকল অভিভাবককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।



