সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক পরিহার করে জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা সময়ের দাবি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উক্তি স্মরণ করে তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ থাকতে পারে, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়।”
বিশ্ব অর্থনীতির সংকটকালীন সময়ে সরকারের জনবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের সব দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার এই খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
অনুষ্ঠানে প্রথমেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য তাঁকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী এবং সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ মোট সাতজনকে মরণোত্তর পদক প্রদান করা হয়।
ব্যক্তিগতভাবে পদক গ্রহণ করেন হানিফ সংকেত (সংস্কৃতি), জোবেরা রহমান লিনু (ক্রীড়া), অধ্যাপক জহুরুল করিম (বিজ্ঞান) এবং মুকিত মজুমদার বাবুসহ (পরিবেশ) অন্যান্য বিশিষ্টজনরা। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এ বছর পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদানকে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



