বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসান বলেছেন, বিগত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারটি মূলত জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সমর্থিত সরকার ছিল। সেই সময়ে যারা ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকে বিশেষ সুবিধা বা আয়েশে ছিলেন, বর্তমানে সেই অনৈতিক সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা ও অস্বস্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রাজীব হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, আগে যারা যখন খুশি প্রধান উপদেষ্টার বেডরুম কিংবা সচিবের রুমে ঢুকে যেতেন, এখন সেই সুযোগ না থাকায় তারা অস্থিরতা প্রদর্শন করছেন।
প্রতিমন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া তথ্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে সর্বোচ্চ ১৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা কীভাবে ১২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার দাবি করেন। তিনি একে ইতিহাসের নতুন বিকৃতি এবং ‘শহীদ ব্যবসা’র অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।
রাজীব হাসান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যেমন ব্যবসা চলেছে, জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো ব্যবসা এই প্রজন্ম সহ্য করবে না। তিনি অবিলম্বে সকল শহীদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশের জোর দাবি জানান। প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর অনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে না।



