জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নবীন উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যে বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেম প্রমাণ করেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলো, ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তৎকালীন সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। ফেসবুকের ‘ভাইরাল রাজনীতি’র সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়ে দেশ চালানো যায় না; এর জন্য অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নিয়ে এর কড়া প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলাম। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রীও সেখানে ছিলেন। যেহেতু সংসদে দাঁড়িয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে, তাই ওনাদের প্রমাণ দিতে হবে যে নাহিদ ইসলাম কোথায় দুর্নীতি করেছে।” উল্লেখ্য, নাহিদ ইসলাম বর্তমান সংসদে যোগ দেওয়ার আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
বিতর্কের এক পর্যায়ে শামা ওবায়েদ বলেন, তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চান যেখানে আইনের শাসন থাকবে। তবে তিনি এনসিপির সংসদ সদস্যদের (নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ) ইঙ্গিত করে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করার আহ্বান জানান।
উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি যুক্তিতে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে হস্তক্ষেপ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো একক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেননি।



