তিস্তা-গঙ্গাসহ সব নদীর ন্যায্য হিস্যা চাই, ফারাক্কা দিবসে ভারতের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে কোনো ধরনের ঝগড়া-বিবাদে জড়ানোর পক্ষপাতে বিএনপি নয়। তবে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ এই নয় যে সীমান্তে দেশের নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে। তিনি সীমান্তে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।

শনিবার (১৬ মে) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে ভাসানী জনশক্তি পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ভারতের উদ্দেশে বলেন, আর কোনো রকমের টালবাহানা না করে চলমান ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসেই গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন করা হোক। পরবর্তী সময়ে কোনো নতুন চুক্তি সম্পাদিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অনির্দিষ্টকালের জন্য হলেও এই চুক্তিটি কার্যকর রাখার দাবি জানান তিনি।

একই সাথে ভারতের নবনির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের সাথে বিভাজনের রাজনীতি করা এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যা এ দেশের মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করে। বর্তমানে যেসব বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে তা দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়। সুসম্পর্কের সদিচ্ছা থাকলে তা বক্তব্য ও কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার আহ্বান জানান তিনি।

নদী তীরবর্তী ও সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের জীবিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু গঙ্গা বা তিস্তা নয়, সব নদীই বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে জড়িত। এই নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন তিনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে গঙ্গার পানি চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, যা নবায়নের প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের স্বার্থ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্বার্থ জড়িত।

মজুলম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অবদান স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ফারাক্কা লং মার্চ ছিল আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধের প্রতীক। মওলানা ভাসানী সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান আন্দোলন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কিংবদন্তির মতো লড়াই করেছেন। বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পছন্দ করে না এবং যারা ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় তাদের এ দেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মওলানা ভাসানীর দূরদর্শী দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে নতুন করে সম্মান জানানোর সময় এসেছে। তিনি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে উজান ও ভাটির দেশের মধ্যে পানির ন্যায্য বণ্টন না হলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক চুক্তি থাকলেও তা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে।

সভাপতির বক্তব্যে ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, শুধু এই চুক্তি নবায়নই নয়, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে দিতে হবে। অন্যথায় অধিকার আদায়ে আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি জানান।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।