সরকারি খাল পুনঃখননে ব্যক্তি উদ্যোগ সম্পৃক্ত করার নতুন নির্দেশনা সরকারের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশের সরকারি খালসমূহ পুনঃখননে ব্যক্তি ও বেসরকারি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করতে নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারের নতুন এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে মাটি ও বালির ক্রমবর্ধমান চাহিদাও পূরণ করা যাবে।

সরকারি পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, দেশে সড়ক নির্মাণ, স্কুল-কলেজ স্থাপন, খেলার মাঠ ভরাট, বসতভিটা উন্নয়ন ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মাটি ও বালির প্রয়োজন হয়। এই চাহিদাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতেই ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরকারি খাল খনন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে পুরো খনন কার্যক্রমটি কঠোর প্রশাসনিক তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যয়ে নির্ধারিত সরকারি খাল খনন এবং খননকৃত মাটি ও বালি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করতে পারবেন। খেয়াঘাট বা ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননের মাধ্যমে এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে সরকার।

সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, খননকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খালের খননকৃত মাটি ও বালি নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন কিংবা চাইলে তা বাজারে বিক্রিও করতে পারবেন। এই মাটি বা বালি ব্যবহারের জন্য সরকার, উপজেলা পরিষদ বা অন্য কোনো সংস্থাকে কোনো প্রকার ফি, কর বা মূল্য পরিশোধ করতে হবে না।

তবে পরিপত্রে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অনুমোদিত নকশা বা প্রাক্কলনের বাইরে গিয়ে কোনোভাবেই অতিরিক্ত খনন কাজ চালানো যাবে না। যদি অতিরিক্ত বা অনিয়মতান্ত্রিক খননের কারণে খালের পার্শ্ববর্তী কোনো জমি, ঘরবাড়ি, স্থাপনা বা সম্পদের ক্ষতি হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

খাল খননকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের বিরোধ বা জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করবেন। এই সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধে ইউএনও-এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।