শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ বিধির শর্ত পূরণ করতে না পারায় ৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদের চূড়ান্ত তালিকা থেকে ১০১ জন প্রার্থীর সাময়িক মনোনয়ন ও ফলাফল বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীন এই বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পদের আবশ্যকীয় যোগ্যতার সঙ্গে প্রার্থীদের সনদের সামঞ্জস্যতা না থাকায় কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ইন্সট্রাক্টর (ইংরেজি ও বাংলা) পদের প্রার্থীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনীয় বিএড বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি না থাকায় এই দুই পদে মোট ৭৫ জন প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি মোট ২ হাজার ৯৫৮টি নন-ক্যাডার পদের জন্য সাময়িকভাবে প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছিল কমিশন। তবে নন-ক্যাডার নিয়োগের শর্তাবলির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রার্থীর পছন্দক্রমের পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা বা সনদের সামঞ্জস্য না থাকলে মনোনয়ন বাতিল করার স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। সেই শর্ত মোতাবেক আবশ্যকীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না মেলায় নবম গ্রেডের বিভিন্ন পদের এই ১০১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ‘জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার’ পদে ১৮ জনের স্বাস্থ্য শিক্ষায় প্রয়োজনীয় এমপিএইচ, ডিপিএইচ বা ডিএইচই ডিগ্রি ছিল না। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ‘তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদে একজনের বিএসসি বা বিএস কৃষি ডিগ্রি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘সহকারী প্রকৌশলী’ পদে একজনের পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘ইনস্ট্রাক্টর (টেক) মেশিন অপারেশন বেসিকস’ পদে ৫ জন এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষক ইনস্টিটিউটের ‘প্রভাষক’ পদে একজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘ইন্সট্রাক্টর (বাংলা)’ পদে ১৫ জনের বিএড ও ২ জনের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি ছিল না। একই অধিদপ্তরের ‘ইন্সট্রাক্টর (ইংরেজি)’ পদে বিএড ডিগ্রি না থাকায় সর্বোচ্চ ৫৮ প্রার্থীর মনোনয়ন ও ফলাফল বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকায় দশম গ্রেডের আরও সাত প্রার্থীর সুপারিশ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে কমিশন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ‘সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি)’ পদের ৫ জন এবং ‘সহকারী শিক্ষক (গণিত)’ পদের ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। স্নাতক পর্যায়ে তাদের সংশ্লিষ্ট নৈর্বাচনিক বিষয় ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পিএসসি জানিয়েছে, স্থগিতাদেশ পাওয়া এই সাতজন প্রার্থীকে আগামী ৪ জুনের মধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট নৈর্বাচনিক বিষয়ের প্রমাণ হিসেবে সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি কর্ম কমিশন কার্যালয়ে সরাসরি হাতে হাতে অথবা ডাকযোগে জমা দিতে হবে।



