সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করছে সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। চিকিৎসাসেবা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের আলোকে সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ৩ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য একটি আদেশ জারি করা হয়। অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী এই নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। মূলত উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অনেক উপজেলা হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় পর্যায়েই অধিকসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছে। এই পরিদর্শন দল দ্রুতই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহ পরিদর্শন করবে। পরিদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতালের অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বিদ্যমান ভবন, সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের উপযোগিতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে।

নির্দেশনায় দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) এই পরিদর্শন দলের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিদর্শন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হলে সামগ্রিক চিকিৎসাসেরার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, মেডিসিন ও সার্জারিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে আসবে এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর বাড়তি চাপ কমবে।

ইতিমধ্যে এই অফিস আদেশটির অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমেও নির্দেশনাটি অবহিত করা হয়েছে।