জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ কোনোভাবেই আর বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। পাচার রোধ করে সেই অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সম্পূর্ণভাবে ব্যয় করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এদিন তিনি কম্পিউটারের বাটন চেপে দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের অর্থায়ন নিয়ে তৈরি হওয়া নানা বিভ্রান্তির জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের যে অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল, তা এখন থেকে বন্ধ করা হবে। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্যই কাজ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করলে অর্থের কোনো অভাব হবে না। আজ থেকে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে এবং সবাই চোখ-কান খোলা রাখলে কেউ দেশের টাকা বাইরে নিতে পারবে না।
এর আগে পবিত্র কুরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জাতীয় সংগীত এবং বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১০ জন নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তর করেন। এর পাশাপাশি চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষের সম্পৃক্ততা জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ স্থানীয় জনতা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিয়ে সমর্থন জানান।
বক্তব্যের শেষভাগে বিএনপিকে গণমানুষের দল হিসেবে আখ্যায়িত করে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল এবং জনগণের শক্তিই দলের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস—এই নীতিতে বিশ্বাস রেখেই যতবার সুযোগ এসেছে, দেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।



