আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা নেই , এই যুক্তিতে দলটি এমন পথ বেছে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ফলে সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সরকারি দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থীই বিজয়ী হবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, বাস্তবসম্মত সুযোগ না থাকায় তাঁরা কোনো প্রতিযোগী দাঁড় করাচ্ছেন না।
তবে একই সঙ্গে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি দল বিএনপি সংসদের অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক মতামত বা পরামর্শ গ্রহণ করেনি।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরা আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে।
যদি একাধিক বৈধ প্রতিদ্বন্দ্বী থাকেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে একক বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না এবং তাঁকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
প্রসঙ্গত, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালুর পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ ভোটে রাজবাড়ীর আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।



