এই দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা, শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, অতীতে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে যখনই জনগণ ফুঁসে উঠেছে, তখন অনেক বড় রাজনৈতিক নেতা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও বেগম খালেদা জিয়া যাননি। তিনি সবসময় বলতেন বাংলাদেশই তাঁর প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরা তাঁর সৈনিক হওয়ায় এই দেশই আমাদের একমাত্র ঠিকানা এবং আমাদের মূল কাজ হলো দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।

বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় পর তারেক রহমানের শ্রীমঙ্গল আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের প্রথম প্রচারণাকালে সিলেটের জনসভা থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে বিএনপি সরকার গঠন করলে চা বাগানের নারী শ্রমিক মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চা শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারায় তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় সব নারী চা শ্রমিকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যেই পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এদিন ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তরের পাশাপাশি চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ঘর নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ৩ জন শ্রমিকের হাতে চেকের অর্থ তুলে দেন এবং বাকিদের টাকা প্রশাসনের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্লোগান তুলে ধরে বলেন, “করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।” বক্তব্য সমাপ্তির পর প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে একটি জাম ও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। এছাড়াও সুবিধাভোগী নারীদের পক্ষ থেকে শিউলী রানি দাস ও ওয়াজেদা বেগম অনুষ্ঠানে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।