বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামে রাখা ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বগুড়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা বিতর্কিত দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মৌখিকভাবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত দাপ্তরিক চিঠি জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়নি, তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ায় তারা দ্রুতই এর প্রশাসনিক কাজ শুরু করবেন। পরবর্তীতে দাপ্তরিক চিঠি আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, নাম পরিবর্তনের পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে গণশুনানির আয়োজন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেখানে নতুন করে তারিখ নির্ধারণ করবেন এবং স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে গণশুনানির মাধ্যমে যে নামগুলো উঠে আসবে, সেগুলোই চূড়ান্ত করা হতে পারে।

এর আগে গত ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ী’ এবং মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে তিনটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারির পর মীরবাড়ী, সীমান্ত ও দিগন্ত—এই তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ী’ এবং তাঁর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল রেখে নবগঠিত ইউনিয়ন দুটির নামকরণ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং জাতীয় সংসদেও এই নামকরণের প্রক্রিয়া ও গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

অবশ্য জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সম্পূর্ণ বিধি মেনে যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির মাধ্যমেই স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এই নামগুলো নির্ধারণ করেছেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে এই মিলকে তিনি সম্পূর্ণ ‘কাকতালীয়’ বলে দাবি করেন।

প্রতিমন্ত্রীর এমন ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক প্রশমিত না হওয়ায় অবশেষে প্রধানমন্ত্রী এই নামগুলো পরিবর্তনের নির্দেশ দিলেন। জেলা প্রশাসনের সূত্র মতে, গণশুনানি শেষে নতুন নাম চূড়ান্ত করে তা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ পূর্বক গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।