ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে চালু হওয়া ‘কৃষক অ্যাপ’ বা অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এই প্রযুক্তির ফলে কৃষকেরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি সরকারের কাছে নিজেদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে যশোর-৪ আসনের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের টেবিলে উপস্থাপিত এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে আরও সহজ ও গতিশীল করার জন্য প্রযুক্তির পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে ‘আগে আসলে আগে বিক্রি করতে পারবেন’ নীতি বা ভিত্তির ওপর নির্ভর করেও ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রান্তিক চাষিদের প্রযুক্তির আওতায় আনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সাধারণ ও নিরক্ষর কৃষকেরা নিজে কিংবা পরিবারের যেকোনো সদস্যের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যে সহজেই এই আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া নিজ এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) কিংবা যেকোনো কম্পিউটারের দোকান থেকেও নিবন্ধন বা ধান বিক্রির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী জানান, যেসব কৃষকের ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগ কর্তৃক ‘কৃষি কার্ড’ তৈরি করা হয়েছে, তাদের কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে নতুন করে কোনো নিবন্ধন করতে হবে না। কারণ, কৃষক অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি কৃষি কার্ডের ডাটাবেজ ইন্টিগ্রেশন বা সংযুক্ত করার কাজ চলছে।
তাছাড়া খাদ্য গুদামে আসা কৃষকদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি সরকারি খাদ্য গুদামে সংগ্রহ কার্যক্রম চলাকালে আগত কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের জন্য ‘কৃষক সহায়তা বুথ’ স্থাপন করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে এক প্রকার ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ হিসেবে কাজ করছে।



