সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও মেধার মেলবন্ধনে আধুনিক কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ছে সরকার: মাহদী আমিন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশে এমন একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চান, যেখানে শুধু পাঠ্যবই নয়; বরং শিক্ষাক্রমের ভেতরেই সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম থাকবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কেবল চাকরিপ্রার্থী না হয়ে ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মসংস্থান ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, অত্যন্ত স্বল্প সময়ে দেশের প্রতিটি জেলা ও ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে এই বৈচিত্র্যময় আয়োজন করা হয়েছে, যা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক দূরদর্শী রূপকল্পেরই বাস্তব প্রতিফলন। তিনি আরও জানান, এই জাতীয় উদ্যোগের মূল অনুপ্রেরণা হলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। করোনাকালে যখন সবাই ঘরবন্দি ছিলেন, তখন তিনি খুদে বিজ্ঞানীদের নিয়ে ভার্চুয়াল সায়েন্স ফেয়ারের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছিলেন।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘সুরভি’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান যেভাবে বছরের পর বছর তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে সৃজনশীল কাজ করে আসছে, সেটিকে পাথেয় করেই মূলত এই আয়োজনকে সরকারিভাবে জাতীয় পর্যায়ে সুপ্রসারিত রূপ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে দেশের ৬৪ জেলার তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রান্তিক ও শহুরে অঞ্চলের সব ধর্ম, বর্ণ এবং ভৌগোলিক পরিবেশের শিক্ষার্থীদের সমান অধিকার ও স্বাধীনতার এই সেতুবন্ধন মূলত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে’রই প্রকৃত প্রতিফলন।

নারী শিক্ষার অগ্রগতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, অতীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার যে সুযোগ করেছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেটিকে এখন স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত ফ্রি এডুকেশন ও স্কলারশিপের আওতায় আনা হয়েছে। এবারের জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যাই বেশি ছিল, যা দেশের নারী অগ্রগতির একটি বড় প্রমাণ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্তভাবে স্থান পাওয়া ১০১টি উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রত্যেকটিকে সরকার আন্তরিকভাবে লালন করবে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে সরাসরি অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে সম্মান জানাতে সারা দেশের ১ হাজার ৪২ জন শিক্ষককে ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড’ এবং ৩০৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘উদ্ভাবনে মেধাবী শিক্ষার্থী অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ স্কিমকে ধারণ করে এদিন দেশের সব মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।