বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আজ তাঁকে বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন।

৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করা মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। শিক্ষকতা ও সরকারি দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮৬ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন এবং ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

৯০-এর দশকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি শপথ নেননি।

বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও সংকটময় মুহূর্তে ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনকালে দমন-পীড়নের মুখে পড়েও তিনি রাজপথের আন্দোলনে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে মূল ভূমিকা পালন করেন এবং কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনবার কারাবরণ করেন।

নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সমাসীন করা হচ্ছে বলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা নিশ্চিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল দুই কন্যা ও স্ত্রীর জনক।