পীরগঞ্জে জামায়াত এমপির বিশেষ বরাদ্দের প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, সভাপতি ভাগনে ও ভগ্নিপতি

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ঘিরে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্পে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংসদ সদস্যের আপন ভাগনে, ভগ্নিপতিসহ নিকটাত্মীয়দের। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ায় বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন সরকারের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে টিআর খাতে ৩০ লাখ টাকা, কাবিটা খাতে ২৫ লাখ টাকা এবং কাবিখা খাতে ৪০ টন খাদ্যশস্য পেয়েছেন। এই বরাদ্দের অনুকূলে তাঁর সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় টিআরের ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে।

এর মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণের একটি কাবিখা প্রকল্পে ১০ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলী সম্পর্কে সংসদ সদস্যের চাচাতো বোনের স্বামী। অন্যদিকে, একই গ্রামের সংসদ সদস্যের ভগ্নিপতি ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়িগামী রাস্তা সলিংকরণ, পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ নামের অপর একটি প্রকল্পে সভাপতি করা হয়েছে ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফকে। ফলে এই দুই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপন পিতা ও পুত্র, যারা সম্পর্কে সংসদ সদস্যের ভগ্নিপতি ও ভাগনে।

এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জু মিয়া জানান, গ্রামের একটি পুরাতন জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অথচ সংসদ সদস্য সম্পূর্ণ স্বজনপ্রীতি করে তাঁর নিজের আত্মীয়দের নামে নতুন প্রকল্প ও বরাদ্দ দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় পৌর জামায়াতের একজন নেতাও ভাগনে ও ভগ্নিপতির নামে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি ও সংসদ সদস্যের ভাগনে সালমান শরিফ জানান, সংসদ সদস্য তাঁর মামা হওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে কাজে কোনো অনিয়ম হবে না এবং শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করা হবে। অনিয়ম হলে দল থেকেই আগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর বাবা জামায়াতের একটি ওয়ার্ডের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে পীরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংসদে আছেন এবং সেখানে কথা বলা কঠিন উল্লেখ করে সংযোগটি কেটে দেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ জানান, আলোচিত দুই প্রকল্পের বিপরীতে যথাক্রমে ১০ টন ও ৮ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার অর্ধেক ইতিমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। সভাপতি সংসদ সদস্যের ভাগনে বা ভগ্নিপতি যেই হোক না কেন, মাঠপর্যায়ের কাজ দেখে তবেই বাকি বরাদ্দ ছাড় করা হবে। একই প্রতিধ্বনি পাওয়া গেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের বক্তব্যেও। তিনি জানান, কাজ না করে সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই এবং কাজ বুঝে নিয়েই চূড়ান্ত বরাদ্দ অনুমোদন করা হবে।