তথ্য বিকৃত হলে সমাজে বিভ্রান্তি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

গণমাধ্যম যত বেশি দায়িত্বশীল ও নির্ভুলভাবে কাজ করবে, রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তত বেশি সঠিক ধারণা পাবে এবং সে অনুযায়ী নিজেদের মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তবে তথ্য বিকৃত করা হলে সমাজে বিভ্রান্তি, সংঘাত ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে তিনি সতর্ক করেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ ও রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের সচেতন নাগরিকেরা কেবল সাধারণ তথ্যের জন্য সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করেন না, বরং বিচার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে তাও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে মূল্যায়ন করেন। বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, যেহেতু নাগরিকেরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও বিচার বিভাগের কাছেই প্রতিকার চান, তাই এই সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসার যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে। বর্তমান প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন সব ভুয়া ছবি, ভিডিও ও তথ্য তৈরি করা সম্ভব, যা দেখতে বাস্তব মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সাইবার আইনের দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

আইনি সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে দেশের সাইবার আইন নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে গঠিত একটি বিশেষ মন্ত্রিপরিষদ কমিটিতে তিনি নিজে ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইসিটি মন্ত্রী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সরকার একা এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবে না উল্লেখ করে কার্যকর আইন প্রণয়নে ল’ রিপোর্টার, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা ও অগ্রিম প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা।