দেশের বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে অতি সংবেদনশীল ৩০টি পণ্যকে এই আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
শুক্রবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি বহুমুখী সরকারি অনুদান, পুরস্কার ও সামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, শুধু বর্তমান বাজার দর নয়, বরং পণ্যের উৎপাদন পরিস্থিতি, আবহাওয়ার প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সামগ্রিক পূর্বাভাস পেতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি সমন্বিত এআই মডেল তৈরি করা হচ্ছে।
সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের বর্তমান সবজি রপ্তানিকারকদের প্রায় অর্ধেকই সিলেটের বাসিন্দা। তবে সঠিক প্যাকেজিং ও প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশনের অভাবে রপ্তানির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এই সংকট সমাধানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যার অধীনে বৈজ্ঞানিক উপায়ে উৎপাদন ও ‘ট্রেসেবিলিটি’ নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া সবজি সংরক্ষণের সুবিধার জন্য সরকার সারাদেশে প্রায় ২ হাজার কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার একটি বড় অংশ সিলেটে স্থাপন করা হবে।
চলমান দুটি বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব সমজাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপরও পড়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে, যাতে কারখানাগুলো পুরোদমে সচল রাখা যায়।
তাছাড়া সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ সম্পর্কে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালের আউটডোর সেবা চালু করার লক্ষ্য নিয়ে জনবল নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষার জন্য ‘হেমাটোলজি অ্যানালাইজার’ এবং জলাতঙ্ক (র্যাভিস) ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।



