জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশজুড়ে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় মাঠ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের চিকিৎসাসেবা ও ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের গাফিলতি করা যাবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি ও উদ্ধারকাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপন্ন মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পৌঁছে দিতে হবে। তা ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে কর্মকর্তাদের বাড়তি নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চুরি, ডাকাতি, পণ্যের অবৈধ মজুতদারি কিংবা ত্রাণ আত্মসাতের মতো ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

ভার্চুয়াল এই বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাৎক্ষণিক আবহাওয়া ও নদ-নদীর পানির স্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানান যে সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই তথ্য পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার জন্য নির্দেশ দেন।