আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জন হতে যাওয়া নতুন চারটি পাঠ্যবই মূলত শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের রূপকল্প, অভিজ্ঞতা ও কর্মযজ্ঞেরই প্রতিফলন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ‘চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা ও চিন্তা নির্বাচনের আগে ইশতেহারেও ফুটে উঠেছিল। সেই আলোকেই নতুন বইগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দময় শিক্ষা), ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক বই দুটিকে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে আরও আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী করার কাজ চলছে। বইগুলোতে শুধু টেক্সট বা লেখার ওপর নির্ভর না করে ছবি, টেবিল, ডায়াগ্রাম ও ভিজ্যুয়াল উপাদানের মাধ্যমে দৃশ্যমান উপস্থাপনা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
কারিগরি শিক্ষার প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, দেশের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম সারির শিক্ষার্থীসহ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্যই কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক। এই দর্শন বাস্তবায়নে প্রতিটি স্কুলে ল্যাব বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে মোটিভেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড অধ্যায় যুক্ত করা হবে।
বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে পাঠ্যপুস্তকে হওয়া অসংখ্য ভুল এবং ইতিহাসের বিকৃতি সংশোধন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে সত্য, সেটিই পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরা হবে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিটি পালাবদলে বিএনপি সব সময় সঠিক অবস্থানে মানুষের পাশে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাসকে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন নেই, বরং এর সত্য বহিঃপ্রকাশ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
আগামী ১ জানুয়ারির মধ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিনি জানান, লজিস্টিকস ও বিতরণের জন্য প্রায় এক মাস সময় লাগবে। সেই হিসাব অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৩১ কোটি বই মুদ্রণ ও প্রকাশনার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনসিটিবির কর্মকর্তা এবং দেশের শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা কর্মশালায় অংশ নেন।



