বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সরকারের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের ১১টি জেলায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। এসব উপদ্রুত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে মাঠপর্যায়ের সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কোনো নাগরিক যেন চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ, স্যালাইন ও অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলায় এই বিশেষ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বন্যাকবলিত প্রতিটি জেলার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করতে একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে জরুরি মেডিকেল টিম মোতায়েনের পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কায় পর্যাপ্ত ওষুধ বরাদ্দ করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী ওঝার কাছে না গিয়ে সাপে কাটা রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, এ পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকার হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী সফলভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল অ্যান্টিভেনম সংরক্ষিত রয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে কোনো ধরনের অ্যান্টিভেনম সংকটের আশঙ্কা নেই। এর পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বন্যাকবলিত এলাকার নাগরিকেরা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম (০১৭৫৯১১৪৪৮৮) খোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।