বাংলাদেশে আর যেন কোনো মানুষ গুমের শিকার না হন, সে লক্ষ্যে প্রতিটি ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সরাসরি আদালতে গিয়ে বিচার পাওয়ার অধিকার সুনিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের ৬১ দিনের গুমের ভয়াবহ স্মৃতি স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বাই ১০ ফুটের অন্ধকার কক্ষে একটি কম্বল ও পাতলা বালিশের ওপর কেটেছে তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত। কখন সকাল হতো তা কেবল নাশতা দিলে বুঝতে পারতেন এবং দেওয়ালে নখের দাগ কেটে দিন গুনতেন। গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক হাস্যরস না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গুমবিরোধী আইনের বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত আইনে অপরাধের শাস্তি, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার সুস্পষ্ট করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া না গেলে তাঁর উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তির অধিকার ও ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে এ আইন আরও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার র্যাবকে বিলুপ্ত না করে জবাবদিহিমূলক সংস্কারের পথে হাঁটছে। আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি বিশেষ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে র্যা বের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সুরক্ষা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব, মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন এবং সাংবাদিক নাজমুল আহসান।



