প্রচলিত শিক্ষা ও কর্মবাজারের ‘স্কিল মিসম্যাচ’ দূর করে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের তাগিদ আইনমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রার প্রধান শক্তি হিসেবে যুবসমাজকে উল্লেখ করে প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের চাহিদার যে ব্যবধান বা ‘স্কিল মিসম্যাচ’ রয়েছে তা দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, চাকরির বাজারমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে তরুণদের নিজেদের উপযোগী করে প্রস্তুত করতে হবে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত চাকরিমেলা ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে এই ধরনের আয়োজন কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের ২৫০০ টাকা সঠিক ব্যবহারে ২-৩ বছরের মধ্যে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হতে পারে।

আইনগত সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, কোনো নাগরিক যেন আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার সে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আইনি সুবিধা প্রদানকারী এমএফআই-গুলোর সঙ্গে শিগগিরই স্মারক চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে। পাশাপাশি জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সাথে এমআরএ-র অধীন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো একক মালিকানা ছাড়া পরিচালনা পর্ষদের অধীনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।

এমআরএ-র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে যশোরের জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান ও পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে আয়োজিত এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ড. হেলাল উদ্দিন।

এদিকে মেলা প্রাঙ্গণে দিনভর দশ সহস্রাধিক চাকরিপ্রার্থীর উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলায় মোট ৩৬টি ক্ষুদ্রঋণদানকারী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) অংশগ্রহণ করে। মেলায় জমাকৃত প্রায় ৩৩ হাজার আবেদনের মধ্যে সরাসরি ভাইভা ও সিভি বাছাই শেষে ১,১১৫ জনকে বিভিন্ন পদে তাৎক্ষণিক নিয়োগ দেওয়া হয়। অবশিষ্ট আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে আরও তিন হাজার প্রার্থীকে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেওয়া হবে।