সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি ড. ইউনূসের বার্তা: নির্বাচন ও গণভোটে ঐতিহাসিক ভূমিকা নিন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি)-২০২৫-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এই আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, অগ্রগতি, জাতি গঠন এবং সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও জাতি গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়। দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আপনারা যে ত্যাগ ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন, তা দৃষ্টান্তমূলক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মহামারির মতো সংকটে সশস্ত্র বাহিনীর অব্যাহত প্রচেষ্টা দেশের জনগণের কল্যাণে তাদের অটল নিষ্ঠার প্রমাণ বহন করে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনীকে সত্যিই একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাহিনীর ভূমিকার কারণে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দেশবাসীকে দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের এই আনন্দময় মুহূর্তে আসুন আমরা সব বাংলাদেশির সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেত্রী খালেদা জিয়া যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।”

ড. ইউনূস তাঁর বক্তৃতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করা সব শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সম্মান জানান।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের প্রশংসা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, কলেজটি এমন নেতৃবৃন্দ গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যারা জটিল ও ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেকে নিবেদিত করতে সক্ষম হবেন। তিনি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা দেশি-বিদেশি কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই অর্জন বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের প্রতিফলন। এখন আপনি উচ্চতর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।” বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তারা নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও মজবুত করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *