আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর বর্বরোচিত গুলি ও হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাবেশ ও গণ-প্রতিরোধ’ শীর্ষক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ।
সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং ওসমান হাদিকে যারা লক্ষ্যবস্তু করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানান।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তার বক্তব্যে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো দেশের জন্য সবচাইতে ক্ষতিকর এলিমেন্টগুলোকে বন্ধু রূপে দেখিয়েছে, ফলে যেটা হয়েছে—আমার স্বাধীনতা, আমার সার্বভৌমত্ব, আমার আত্মমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। আমরা লাল-সবুজের পতাকা বুকে পেঁচিয়ে আজাদীর সংগ্রাম চালিয়ে যাব। শরীফ ওসমানদেরকে পাড়া-মহল্লায় নতুন করে পরিচিত করানো হবে। এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ইনকিলাব জিন্দাবাদ হয়ে থাকবে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাদি বাংলাদেশকে ইনসাফের পথে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ছোট ছোট ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জুলাই প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ ও ইন্ডিয়ার প্রশ্নে আমাদেরকে একটা সেটেলমেন্টে আসতে হবে।” দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুশীল সমাজের সমালোচনা করে বলেন, “এই সুশীলদের বিরুদ্ধে, কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে হাদি যে লড়াই শুরু করেছিল, সে লড়াই আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। এই ভারতীয় কুকুরদের চিহ্নিত করে নির্মূল করতে হবে। বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের কোনো আইকন থাকতে পারবে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, “আমার ভাই ফেরত আসবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলবে।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এক বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলো যে কাজটা করতে পারে নাই—অর্থাৎ কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে নাই—সেই কাজটাই এই মানুষটা করতে গিয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।



