অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মানুষ দাঁড় করাচ্ছেন হাসিনা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকেরা অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মানুষ দাঁড় করাচ্ছেন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ক্ষমতা, গদি ও মন্ত্রণালয়ের লোভে যারা দিল্লিকে ‘কেবলা’ বানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা তৃতীয়বারের মতো বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, নির্বাচন বানচাল করতে চায়, ওসমান হাদিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং সীমান্তে বাংলাদেশি ভাই–বোনদের ঝুলিয়ে রাখছে—তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ভারত।

এই এনসিপি নেতা ভারতকে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার বিশ্বাস করে না, তাদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়া হলে বাংলাদেশও তার পক্ষ থেকে ভারতের সেপারেটিস্টদের আশ্রয় দিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’কে ভারত থেকে আলাদা করে দেবে। তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জবাব দেওয়া হবে এবং সেই বিদ্রোহের আগুন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে।

ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও শকুনদের হাত থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে এবং আবারও শকুনেরা বাংলাদেশের মানচিত্রে থাবা বসানোর চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বাংলাদেশকে আরেকটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন ইলেকশন কমিশনারের ওসমান হাদির মৃত্যুকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলা অমানবিক। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়েও তিনি তীব্র বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এখনও এক শ্রেণির আওয়ামী লীগ শিক্ষক পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং নাটক ও সিনেমার মাধ্যমে সংগ্রামী মানুষের মৃত্যুকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নীল দলের আওয়ামী ‘পা-চাটা’ শিক্ষকদের এবং নাটক–সিনেমা থেকে আওয়ামী ও মুজিবপন্থি শিল্পীদের স্টেজ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেন।

জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য, মঞ্চে এক কথা বলে গোপনে সমঝোতা করে জাতীয় ঐক্য হয় না—এগুলো ‘মেকিং’ ঐক্য। তিনি আরও বলেন, আরপিও সংশোধনের পর ফ্যাসিবাদীরা অন্য দলের মার্কায় নির্বাচন করতে পারবে না বলে নিজের দলের মার্কা বিলীন করতেও প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *