স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা একাধিক নেতার

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া সমমনা দল ও জোটগুলোকে আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ দলটির মাঠ পর্যায়ের একটি বড় অংশ। বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপির বিক্ষুব্ধ ও প্রভাবশালী নেতারা দলীয় সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে মিত্র দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।

গত মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে চারটি আসনে নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। আসনগুলো হলো— নীলফামারী-১ (মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী), নারায়ণগঞ্জ-৪ (মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী), সিলেট-৫ (মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব)। এসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না বলে জানানো হয়েছে।

তবে এই ঘোষণা আসার পরপরই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। রুমিন ফারহানা জানান, তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই আসনে আরও দুই নেতা এসএন তরুণ দে ও আক্তার হোসেনও স্বতন্ত্র নির্বাচনের কথা বলেছেন। নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হলে আসনটি হাতছাড়া হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও একই চিত্র দেখা গেছে। এখানে শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহ্‌ আলম স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন এবং সাবেক এমপি মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছাড় দেওয়ার গুঞ্জনে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বতন্ত্র লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। নীলফামারী-১ আসনে খালেদা জিয়ার ভাগনে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন মনোনয়ন না পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

আসন ভাগাভাগি নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গেও বিএনপির টানাপোড়েন কাটেনি। দলটি অন্তত ৪টি আসনের দাবিতে অনড় থাকলেও বিএনপি এখন পর্যন্ত পটুয়াখালী-৩ ও ঝিনাইদহ-২ আসন নিশ্চিত করেছে। সমঝোতা না হওয়ায় গণঅধিকার পরিষদ প্রথমে সংবাদ সম্মেলন ডেকেও পরে তা স্থগিত করে পুনরায় আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, আন্দোলনে যুক্ত থাকা ৫৭টি দল ও জোট বিএনপির কাছে ২২২টি আসন দাবি করেছে। এর মধ্যে এলডিপি ৪০টি, ১২ দলীয় জোট ২১টি এবং গণঅধিকার পরিষদ ৩৫টি আসনের তালিকা দিয়েছিল। এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে আসন ছাড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *