শহীদ শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলনে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে সংহতি প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সরকারের এই আশ্বাসের পরও আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার সকাল থেকেই শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সহস্রাধিক আন্দোলনকারী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত এলাকায় অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে চলে বৈপ্লবিক স্লোগান ও দেশাত্মবোধক গান। আন্দোলনকারীদের স্লোগানে শাহবাগ এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দুপুরের দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিহত হাদির কবর জিয়ারত করতে এলে আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ালেও তিনি চলে যাওয়ার পরপরই পুনরায় রাস্তা দখলে নেন তারা। দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যাতে রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
শনিবার দিবাগত রাতে শাহবাগের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “শহীদ হাদির জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে এটি একটি জাতীয় দাবি। ইনশাআল্লাহ, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারির পর এই হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদেই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা বিদেশে থাকলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার করা হবে এবং তাদের ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। সরকার শত্রুপক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তদন্ত করছে বিধায় তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে রাত সাড়ে ১১টায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আজ রোববার দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একযোগে অবরোধ পালন করা হবে। এই কর্মসূচি কেবল হাদি হত্যার বিচারের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে আবদুল্লাহ আল জাবের কিছু গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা চলছে। ‘যমুনা ভবন’ ঘেরাও সংক্রান্ত খবরকে তিনি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন এবং কর্মীদের শুধু ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল পেজের বার্তার ওপর ভরসা করার আহ্বান জানান। বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ছাত্রজনতা কোনো আপস করবে না বলে তিনি প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।



