বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সবাই ‘বাংলাদেশি’, কোনো ‘আদিবাসী’ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকল নাগরিকের একটিই পরিচয়, আমরা সবাই ‘বাংলাদেশি’, এখানে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই বলে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকই সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও অংশীজন সর্বসম্মতিক্রমে সম্মত হয়েছে যে সর্বস্তরের মানুষের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। এই অবস্থানই দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মূল ভিত্তি।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, রাষ্ট্র তার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। জাতীয় মূলধারায় যুক্ত করতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের কল্যাণে সাংবিধানিক নীতি অনুযায়ী বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সনদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০০৭ সালে জাতিসংঘে গৃহীত ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ (ইউএনডিআরআইপি) সনদের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে ভোটদানে বিরত ছিল। ফলে এই আন্তর্জাতিক ডিক্লারেশন বা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।

সিএইচটিআরএফ-চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সারজিস আলমসহ বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য রাখেন।