বিএনপি থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে যা বললেন রুমিন ফারহানা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একে তার জীবনের ‘নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রুমিন ফারহানাসহ ৯ জনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কারের বিষয়টি অবধারিত ছিল। তবে যে নেত্রীর ছায়ায় তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন, তার মৃত্যুর দিনেই এই আদেশ আসাকে তিনি একটি বিশেষ সংকেত বা ‘আল্লাহর ইশারা’ হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, “যিনি আমাকে রাজনীতিতে এনেছিলেন, তিনি যেদিন চলে গেলেন, বিএনপির সাথে আমার যাত্রাও সেদিনই শেষ হলো।” ১৭ বছর বিএনপির সাথে যুক্ত থাকা রুমিন ফারহানা জানান, খালেদা জিয়ার অভিভাবকত্বেই তিনি অভিজ্ঞতার তুলনায় বড় বড় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনে দলীয় ফোরামের বৈঠক ও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সাধারণত মৃত্যুজনিত শোকের দিন কোনো বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যাওয়ার সংস্কৃতি আমাদের নেই। রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে দলীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং করে এই আদেশ দেওয়াকে দেশের মানুষ কীভাবে নেবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

নিজের নির্বাচনি এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা দাবি করেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি সেখানে দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশেই কাজ করছিলেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে ওই আসনে হঠাৎ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা জুনায়েদ আল হাবিবকে প্রার্থী ঘোষণা করায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। এলাকার মানুষের অনুরোধে এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি স্বতন্ত্র লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রুমিন ফারহানা আরও জানান, এমপি বা মন্ত্রী হওয়া বড় কথা নয়, বরং একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠাই তার মূল লক্ষ্য। বিএনপির সাথে পথচলা শেষ হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই লড়াইকেই তিনি তার রাজনীতির নতুন যাত্রা হিসেবে বিবেচনা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *